যোগদানের ১২ দিনের মধ্যেই নিজের সম্পদের হিসাব দিলেন দুদক চেয়ারম্যান

২২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২১:০৭  

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাত চেয়ারম্যানের মধ্যে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম নিজের সম্পদের হিসাব গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরলেন বর্তমান চেয়ানম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। হিসাবে ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট, স্ত্রীর সঙ্গে একটি প্লট, ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ২৫ সেলফ ভর্তি দেশি-বিদেশি দামি বইপত্রসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যোগদান করার মাত্র ১২ দিনের মধ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজ সম্পদের হিসাব প্রকাশ করেছেন তিনি।

রবিবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নিজের আয়–ব্যয় ও সম্পদের বিবরণী তুলে ধরেন দুদক চেয়ারম্যান।

এসময় তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের সম্পদ বিবরণী দুদক সংস্কার কমিশনের কাছে জমা দিয়েছের। অন্য কমিশনাররা তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দেবেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি যে প্রধানমন্ত্রীও পালিয়েছেন একই সঙ্গে বায়তুল মোকাররমের খতিবও পালিয়েছেন। রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। এই বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। আর সেটা জনসচেতনতা প্রচার করতে হবে গণমাধ্যমকে।

এসময় উপস্থিত দুদক কমিশনার কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী বলেন, ‘মাত্র অর্ধেক জনবল নিয়ে দুদক কাজ করছে। আমরা নির্মোহভাবে অনুসন্ধান করব। কোথায় পক্ষপাত হবে না। আমরা জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ বলেন, দুদকের পেশাগত ভিত্তি অনেক শক্ত। ৪২ দিন কমিশন না থাকার পরেও দুদকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিরলস কাজ করে গেছেন। পৃথিবীর কোনো মানুষের দাসত্ব করবে না দুদক।

দুদক চেয়ারম্যানের যত সম্পত্তি

ঢাকার বসিলাতে ১৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট আছে। সেখানে আরও ৭০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট নেওয়ার প্রক্রিয়াধীন। পূর্বাচল আমেরিকান সিটিতে স্ত্রীর সঙ্গে ৫ কাঠার একটি খালি জায়গা (প্লট) আছে।

বিসিএস প্রশাসন সমিতির সদস্য হিসেবে ৮ জন সদস্য মিলে ১০ কাঠার একটি প্লট কিনেছেন। এ প্লটের মধ্যে ভাগে ১ দশমিক ২৫ কাঠা পাবেন। ২০০৭ সালে টাকা-পয়সা দিলেও দখলে অনিশ্চিত। রাজউকের একটি প্লটের জন্য ৭৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন, এখন পর্যন্ত সেটার নিষ্পত্তি হয়নি।

অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ২৫ সেলফ ভর্তি দেশি-বিদেশি দামি বইপত্র ও বাসায় ৫ লাখ টাকার মতো আসবাবপত্র আছে।  ৩০ লাখ টাকার ৫ বছর মেয়াদি একটি সঞ্চয়পত্র, ২০ লাখ টাকার আরেকটি সঞ্চয়পত্র আছে। জিপিএফের (সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল) টাকা এখনও তুলেনি, সেখানে ১৭ লাখ টাকা আছে।

সম্পদের উৎস

টাকার উৎসের ব্যাপারে চাকরি থেকে আয় এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের বিক্রয়লব্ধ অর্থ রয়েছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন বলেন, পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালের একটি বড় অংশ আমাদের বাগান বাড়ি ছিল, আমাদের অনেক ভাই-বোন, সবাই মিলে সেটা বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছি, তা দিয়ে একটা ফিক্স ডিপোজিট করেছি।

এ ছাড়া শিক্ষকতা, বক্তৃতা এবং লেখালেখি করে সম্মানির কিছু অর্থ পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, ঢাকার বেঁড়িবাধের বাইরে সাড়ে ৫ শতক একটি জমি কিনেছিলেন, সেটা বিক্রি করে কিছু টাকা পেয়েছেন। আর হাতে নগদ এবং ব্যাংক মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার মতো রয়েছে।

২০০৯ সালে সরকারি চাকরি থেকে ওএসডি হওয়ার পর চাকরি চলে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, এখন যেহেতু চাকরি ফিরে পেয়েছি সুতরাং পেনশন ও অন্যান্য বেনিফিট সব পাব। হঠাৎ করে দেখা যাবে আমার টাকার অংশ বেড়ে গেছে। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতির সমান বেতন-ভাতা পাচ্ছি। মূল বেতন এক লাখ ৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ৫০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, বিশেষ ভাতা এবং অন্যান্য ভাতা পাই। এর বাইরে অন্য কোনো খাতে উপার্জনের সুযোগ দেখি না।